Sunday, 5 April 2015

এমন দিনে কারে বলা যায়???...

আকাঙ্খা ,চাহিদা  কার না থাকে?।প্রতিটি মানুষের জীবনের এই শব্দ গুলি খুবই চেনা।.কিন্তু বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে চাহিদা গুলি বিভিন্নরকমে হয়ে থাকে।আমি ,খুব ই সাধারণ একটি মেয়ে।আর পাঁচটা মেয়েদের মত চটকতাও নেই বা সুন্দরী ও নই.আছে বলতে মন ভরা ভালবাসা। চাহিদা আছে কিছু ,যেমন - ভালবাসার মানুষ  গুলির কাছ থেকে ভালবাসা পাওয়ার, সান্নিধ্য পাওয়ার।.কাছের মানুষ গুলো কে ধরে রাখার চাহিদা আছে..দামী জিনিস ,বাড়ি গাড়ি,টাকাপয়সার চাহিদা কোনকালেই আমার মন কে ভোলাতে পারেনি।মাঝে মাঝে মনে হয় আমার জীবনের চাহিদা গুলো পূরণ করা হয়ত খুব ই মুশকিল। আর পাঁচটা মানুষের জীবনের চাহিদাগুলো হয়ত খুব ই সহজে মেটানো যায়. কারণ তার জন্য প্রয়োজন হয় শুধুমাত্র অর্থের। ..আবেগের কোনো জায়গা নেই সেখানে। .আজকের প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যে  এটারই অভাব??আবেগের??নিজের মনের কথা কেউ কি শুনতে পায়না।.??বা শুনতে পেয়েও সেটাকে সরিয়ে মস্তিস্কের সিদ্ধান্তটাকেই বেছে নেয়?আমার অবস্থা টা ভেবে ঠিক রবিঠাকুরের লেখা দুটি লাইন মনে পড়ল..

"আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল শুধাইল না কেহ.."

পরের লাইনে নাহয় নাই গেলুম।.মানুষ এখন অনেক বেশি যন্ত্র হয়ে গেছে।.তাই বলে কি আমার  এই অহেতুক লেখা ব্লগ এর পাঠক পাঠিকা রা আমার সম্পর্কে ভাবছে যে "নিশ্চই মেয়েটি একা, দুঃখী। কোনো কাজ নেই বলে এরকম কথা লিখছে " আমার কাজ,গান,পড়া,লেখা সব কিছুকে বাদ দিয়েও যখন আমার কিছু সময় বাকি থেকে যায়,যখন আমি কারুর সাথে কথা বলতে চাই,নিজের অত্যন্ত ব্যক্তিগত কিছু  সময় ভাগ করে নিতে চাই কারুর সাথে ,তখন চারপাশ টা কেমন শুন্য লাগে।সবাই খুব ব্যস্ত,কিসের জন্য??আরো বেশি রোজগার??আরও খ্যাতি?যশ??নাম??প্রতিপত্তি??গাড়ি বাড়ি??কিজন্য??একদিন তো এই সবকিছু ছেড়ে চলে যেতে হবে,তখন মনের আবেগ ছাড়া কিছু থাকবেনা।.এখন আর মানুষ কে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে ভয় করে ।.সে যে সম্পর্কই হোক না কেন..আমার জীবনে তাই সবচেয়ে বড় সঙ্গী গান,গল্প,কবিতা,উপন্যাস,এককথায় বই.তাছাড়া রবিঠাকুর তো আছেন ই মাথায় ছাতা হয়ে..গ্রীষ্ম ,বর্ষা থেকে সুরু করে প্রতি ঋতু তে প্রতি মুহুর্তে। .আরো কিছু সঙ্গী সাথী রা আছে বেড়াল,কুকুর,পাখি,গাছপালা,যারা নিঃস্বার্থ ভাবে আমার কথা শোনে। .তাদের কথা আমাকে হাবেভাবে বোঝায়।.আসলে আমার জীবন টা  বড় লক্ষ্যহীন। আমি কোনকিছুই পেতে চাইনা। .আমার চাওয়া পাওয়া গুলো যদি কখনো কাউকে আমি বোঝাতে পারতাম,মানসিকভাবে হয়ত ভীষণ আরাম পেতাম। .


মানুষ মনের কথা শুনতে ভুলে গেছে।  যন্ত্রের মত এগিয়ে চলেছে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে।..আমার  মতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া মানে নিজের ভালোলাগার ভালবাসার কাজটিকে প্রতিষ্ঠা করা.. নিজের মধ্যে  দিয়ে সেই কাজের প্রতি নিষ্ঠা প্রকাশ করা.কিন্তু এখনকার দিনে প্রতিষ্ঠা র মানে অন্য।.কতখ্খনে কাউকে ল্যাং মেরে,কারুর মুখের অন্ন কেড়ে  নিয়ে তাকে নিচে নামিয়ে নিজে ওপরে উঠতে পারার নাম ই প্রতিষ্ঠা।ঘৃনা হয় নিজেকে মানুষ বলে ভাবতে।এখন মানুষ হয়েছে আবেগহীন।তার বদলে এসেছে বেগ.নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বেগ.প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বেগ,নাম করার।.হোক সবাই প্রতিষ্ঠিত।.আমি চাইনা  কিছুই।.নাম যশ খ্যাতি থাক সব তোমাদের জন্য ।.আমি চাই একটু ভালোবাসা ,একটু মানবিকতা।.
শেষে সেই রবিঠাকুরের দুটি লাইন। ..

"ওগো অন্ধকারের অন্তরধন , দাও ঢেকে মোর পরান মন। .
আমি চাইনে তপন, চাইনে তারা" ......

Thursday, 5 December 2013

ichche...

ইচ্ছে হলো একধরনের গঙ্গাফড়িং,
অনিচ্ছেতেও লাফায় খালি তিরিং বিরিং। ।


ইচ্ছে ...কিভাবে শব্দ টাকে বিশ্লেষণ করব জানিনা ...সবার জীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং মানে না জানা শব্দ টি হয়ত ইচ্ছে।.নানান মানুষের নানান রকমের ইচ্ছে।.কিন্তু সেই ইচ্ছেটা যে কি সেটা কেউ কি জানে??
কজন মানুষ তার নিজের  ইচ্ছেটা কে ঠিক মতন বাস্তবায়িত করতে পারে??খুব কম মানুষ আছে যারা ভেতরের চাওয়াটাকে বুঝতে পারে।.তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া তো দুরের কথা ....এই কথা গুলো সবার মধ্যেই আছে কিন্তু কেউ ভাবতে চায় কিন্তু পারেনা আর কেউ ভাবেইনা।..কেন??কেন তারা এই নিজের চাওয়া গুলোকে দিনের পর দিন মাটি চাপা দিয়ে চলছে।?জানিনা।.অদ্ভুত কিন্তু মানুষ নিজের ইচ্ছে কে গুরুত্ব না দিয়ে অন্যের ইচ্ছে পূরণ করছে।.এটাও একটা মহৎ কাজ..নয় কি??কিন্তু তাতেও মানুষের স্বার্থ আছে..এটাও কি স্বার্থ নয়??নিজের ইচ্ছে টা  কি স্বার্থের মধ্যে পড়ছে না?
আমিও এরকম কিছু মানুষের মধ্যেই পড়ি ..কোন পর্যায়ের সেটা বলা মুশকিল। ....

একটু ভেবে দেখতে গেলে আমি নিজের ইচ্ছে গুলোকে বুঝতে পারি কিন্তু সেটাকে বাস্তবায়িত ও করতে চাই..কোনো কোনো সময় করে উঠতে পারি।.কখনো পারিনা।.পারিনা কেন..চেষ্টা করিনা??তা নয় চেষ্টা করি কিন্তু প্রবল চেষ্টা করিনা।.কিছু প্রতিকুল অপ্রতিকুল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং আমার চেষ্টা কে সেখানেই থামিয়ে দেয় ...

কিন্তু আমি থামিনা।.যতই  বাধা আসুক ইচ্ছে কে প্রশ্রয় দিয়ে থাকি।.এরপর সে মাথায় উঠে নাচবে নাকি আমাকে নাচবে সে আমার জানা নেই..সবাই ভেবে দেখো এত তো নিজের স্বার্থের কথা আমরা ভাবি।. এই স্বার্থপরতার কাজ তাও নাহয় করলাম.....


........ইচ্ছে হলো একধরনের স্বপ্ন আমার,
                  মরবো দেখে বিশ্ব জুড়ে যৌথ খামার।...

Wednesday, 17 July 2013

hariye jaoa muhurto gulo...

রোজকার মতন ই বিকেলে পড়াতে যাচ্ছিলাম চেনা রাস্তা ধরে ....
এমনিতেই দেরী হয়ে গেছে ....
তাড়াহুড়ো করে হাঁটছিলাম।
সাধারণত হাঁটার সময় এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখা খুব একটা হয়ে ওঠেনা ...
তাড়া থাকলে তো একেবারেই নয় ...
কিন্তু হঠাত আজকে একটা মুহুর্তে থমকে দাঁড়ালাম।
বিকেল এর দিকে একটু একটু মেঘ করেছিল ..
হঠাত ফোঁটা ফোঁটা  বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো।
এক বৃদ্ধ আর বৃদ্ধা সান্ধ্যভ্রমণ এ  বেরিয়েছিলেন বোধহয় ...
বৃদ্ধা টি নিজের স্বামীর থেকে একটু এগিয়ে এগিয়েই হাঁটছিলেন ..
ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি শুরু হতেই বৃদ্ধ টি ছাতা খুললেন।।
কিন্তু ওনার স্ত্রী ততক্ষণে এগিয়ে গেছেন .....
আমি পিছন এ ধীরে ধীরে হাঁটছিলাম,তখন সময় এ পৌঁছানোর কথা ভুলেই গেছি ...
দেখলাম বৃদ্ধ কিছুটা এগিয়ে বৃদ্ধার হাত টেনে ছাতার তলায় নিয়ে এলেন।
জানিনা আমি হয়ত এই দৃশ্য টা দেখার জন্যই ওদের পিছন নিয়েছিলাম।
নিজের মনেই হেসে ফেললাম।।কেন জানিনা ...
এখন কার দিনের যুবক যুবতী রা কি তাদের বার্ধক্যে পৌঁছে এভাবেই দুজন দুজন কে ভালবাসবে???
আজকের এই দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সময় কি পারবে এই হারিয়ে যাওয়া মুহূর্ত গুলো কে বাঁচিয়ে রাখতে?? 

Saturday, 29 June 2013

aamar kotha..

আমি .....
শব্দ  টা  খুব ই ছোট .কিন্তু একটা গভীর অর্থ বহন করে।।শুনতে খুব ই স্বার্থপর এর মত শোনায় কিন্তু তার বাইরেও যে "আমি" কথা টার  একটা আলাদা অস্তিত্ব আছে সেটা হয়ত সবাই বোঝেনা।
আজ তাই "আমি" কথাটা নিয়ে কিছু কথা লেখার চেষ্টা করছি।এক খুবই সাধারণ মেয়ে যার "আমি"টাকে খুব কাছ থেকে চিনি জানি।।যার চিন্তা মানসিকতা গুলো কে আমি বুঝি।।অবশ্যই লেখা গুলো খুবই এদিক ওদিক ছড়ানো অগোছালো তাও নিজের মনের ভাব তো ...
          "আমি খুব ই সাধারণ এক মেয়ে।আর পাঁচটা বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবার এর মত করেই বড় হয়েছি।কিন্তু আমার চারপাশের পরিবেশ থেকে আমি খুব ই আলাদা।।নাহ ...আমার জীবনের ইতিহাস আমি লিখবনা।।টুকরো টুকরো কতগুলো কথার মধ্যে দিয়ে নিজের ভাবনা গুলো কে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেব।।
আমার বয়সী আর পাঁচটা মেয়ে যখন বন্ধু বান্ধবী নিয়ে মজা করে ঘুরে ফেরে আমি তখন নিজের জগত এ নিজের কিছু প্রিয় ছোটখাটো কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি।।আজকের এই জাঁকজমক ভরা জীবনে আমার মন পড়ে থাকে সেই উত্তর কলকাতার ঘোরানো সিঁড়িওলা  বাড়ি গুলোর চিলেকোঠায় বা কোনো গ্রামের মাটির বাড়িতে।।সেই নিয়ে আমার আফসোস নেই।।বেশ ভালই লাগে।কতগুলো ছবি  বারবার যেন আমার কল্পনায় এসে বারবার আমাকে সেই জায়গা গুলোয় নিয়ে যেতে চায়।।যেমন গঙ্গার ধার একটা সাদা রঙের বাড়ি ছোট একটা বাগান,গঙ্গার ঘাটের ঠিক গা ঘেঁসে বাড়ির দরজা..সেখানে থাকবে আমি আর আমার মনের মানুষটা ..এরকমটা  কি হবে???এখনো এই যুগেও কি কারোর এরকম স্বপ্ন পূরণ হতে পারে??".....
                                      ..........পাগলি সেই মেয়েটা বোঝেনা এই যুগে এরকম মনোভাব এর কোনো জায়গা নেই দাম নেই।।এখন কেউ এত ধীরে সাদা কালো ছবির মত করে ভাবেনা।।।চারপাশ টা এত রঙিন হয়ে গেছে দেখে চোখ ঝলসে যায় ওর ....